October 10, 2026, 6:36 pm
রাজধানীর শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সামনের সড়কে আগুন ধরিয়ে জামায়াত–শিবিরের নেতা–কর্মীদের বিক্ষোভ। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টায় তোলা
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স ঘিরে বিক্ষোভ করেছেন জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরের নেতা–কর্মীরা। তাঁদের দাবি, ঢাকায় সাঈদীর জানাজা পড়াতে হবে। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
রাজধানীর শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভেতরে ও সামনের সড়কে রাতভর জামায়াত–শিবিরের নেতা–কর্মীরা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ উল্লেখ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন তাঁরা।
আজ মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে পুলিশ কঠোর অবস্থান নেয়। এ সময় কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় পুরো হাসপাতাল এলাকা। একপর্যায়ে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে হাসপাতাল ও শাহবাগ এলাকা ত্যাগ করে বিভিন্ন দিকে চলে যান।
কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনা চলে আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে। এ ঘটনায় বেশ কিছু নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে জামায়াত-শিবিরের সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন।
পরে দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স পুলিশের কড়া পাহারার মধ্যে শাহবাগ এলাকা ছাড়ে। তাঁর মরদেহ পিরোজপুরে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী গতকাল সোমবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুর খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার পর থেকে শাহবাগ এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীরা জড়ো হন। শাহবাগ মোড় থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের (সাবেক শেরাটন হোটেল) মোড় পর্যন্ত সড়কে অবস্থান নেন তাঁরা। তাঁদের অবস্থানের কারণে সড়কের একপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এর আগে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হলে গত রোববার বিকেলে কারাগার থেকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ওই রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিএসএমএমইউতে নেওয়া হয়।
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ছিলেন। তিনি জামায়াতের রাজনীতির পাশাপাশি ওয়াজ করা বা ধর্মীয় বক্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।